সোমবার | ১৭ই মে, ২০২১ ইং | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৭:২৭ | রেজিঃ নং-

কুয়েতের আদালতে এমপি পাপুলের সাজা ; এলাকায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা-মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলকে চার বছরের সাজা দিয়েছে কুয়েতের আদালত। একই সাথে অভিযুক্তকে ১৯ লাখ দিনারও বাংলাদেশী টাকায় ৫৩ কোটি টাকার জরিমানা করেছে আদালত। গত বছরের ২৬ নভেম্বর এ মামলার শুনানি শেষে কুয়েতের অপরাধ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল-ওসমান বৃহস্পতিবার পাপুলের মামলার এ রায় ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে পাপুল সে দেশের কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে পাপুলের এ রায় ও সাজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের অধিকাংশ সাধারন মানুষ এবং রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছে। অনেকেই অসৎ, অদক্ষ এবং নীতিভ্রষ্ট এমন এমপি চাইনা বলে মত প্রকাশ করেন। তাদের মতে পাপুল শুধু এলাকারই নয় দেশের মর্যাদা আন্তজার্তিকভাবে ক্ষুন্ন করে রাষ্ট্রদ্রোহে শামিল হয়েছেন বলে জানান। এক রক্তচোষা জোঁক হিসাবে তাকে আখ্যা দিয়ে তাকে বয়কটের ডাক দেন অনেকেই।

অপরদিকে পাপুলের এ রায়ে পরিবারের সদস্যরা ও ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের শেষের দিকে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম শ্যালিকা জেসমিন প্রধান সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত আয় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে পৃথক মামলা করে দুদক ও সিআইডি। ডিসেম্ভরে তারা অনেকেই আদালত থেকে জামিনে মুক্ত থাকলে ও দেশীয় আইনের খড়গে কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছে পাপুল ও তার পরিবারটি।

এ ছাড়া টাকার গরমে বিভিন্ন সভা সমাবেশে ক্ষমতার অপব্যাবহার, তার অহংকার মুলক বিদ্রুপ কুটুক্তি শুধু এলাকায় নয় দেশ জুড়েই ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে করে তাকে ঘিরে ঘরে বাইরে নানা রাজনৈতিক চক্রান্ত সহ ঘটনা প্রবাহে তার চন্দপতনের সৃষ্টি বলে বিজ্ঞজনদের ধারনা।

অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে পাপুলকে গ্রেফতার করে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে করা মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়। পাপুলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা এবং তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে কুয়েতের পার্লামেন্টের দুই সদস্য সাদাউন হামাদ ও সালাহ খুরশিদ, জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন কুয়েতের দুই সংসদ সদস্য। আর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল শেখ মাজন আল-জারাহকে জামিন দেন আদালত।

গ্রেফতারের পর এমপি পাপুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মারাফিয়া কুয়েতিয়াকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে কুয়েত সরকার। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের কয়েকটি চুক্তি ও কাজের আদেশও বাতিল করা হয়েছে।

Comments are closed.



সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোঃ সহিদুল ইসলাম (সহিদ)

প্রধান কার্যালয়ঃ

বার্তা বিভাগঃ এস,এ পরিবহনের পিছনে
উত্তর তেমুহনী বাসষ্ট্যান্ড, সদর, লক্ষ্মীপুর।

সম্পাদকীয়ঃ বিআরডিবি ওয়ার্কশফ ভবন
বাগবাড়ী, সদর, লক্ষ্মীপুর।

ই-মেইলঃ newsdailyrob@gmail.com, মোবাইলঃ 01712256555, 01620759129

Copyright © 2016 All rights reserved www.rnb24.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com