রবিবার | ১৫ই মে, ২০২১ ইং | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | রাত ৩:৫৬ | রেজিঃ নং-

পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি : জনসাধারণকে জিম্মি করা যাবে না

001054-1

সম্পাদকীয় :   চরম জনভোগান্তির দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে গতকাল। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আগের দিনের মতো অফিসযাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াসহ নানা প্রয়োজনে রাস্তায় নামা মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাজধানীতে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ধর্মঘটি শ্রমিকরা। প্রাইভেট কার চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ব্যক্তিগত বাহনও বাধার মুখে পড়েছে। দূরপাল্লার রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে চালককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

   

দুই দিনের ধর্মঘট শ্রমিকদের পক্ষে জনসমর্থন টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের অনৈতিক কর্মসূচিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখানো হয়েছে এই ধর্মঘটের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে সেতু ও সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। অবশেষে অযৌক্তিক ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল, অবরোধ বা ধর্মঘট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন শাস্তি হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট থেকে রুল জারি করা হয়েছে

   

দেশের সড়ক পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকদের কাছে দেশের যাত্রীসাধারণ যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারের অর্থাৎ জনগণের অর্থে তৈরি সড়কপথে অরাজকতা সৃষ্টি করে চলেছে বেসরকারি মালিকানাধীন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। দেশের বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বেসরকারি মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে। ইচ্ছামতো বাস ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের লাইসেন্সবিহীন চালকরা প্রাণহানি ঘটানোর মতো অপরাধ করেও কৌশলে রেহাই পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের কিছু হলেই গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

   

রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে অন্যের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। ধর্মঘটের নামে এভাবেই যুগের পর যুগ চরম নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা। ঢাকার গণপরিবহনে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে যাত্রীদের ভাগ্যে জোটে লাঞ্ছনা। এমনকি দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের রায়ের প্রতিও তারা শ্রদ্ধাশীল নয়। আদালতের রায়ে কোনো একটি পক্ষ তুষ্ট হতে পারবে না—এটাই স্বাভাবিক। নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। সেখানে নতুন করে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। তাতে সাজা মওকুফ কিংবা হ্রাসের সুযোগও থাকে। এমন উদাহরণ সারা বিশ্বেই আছে। কিন্তু আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ধর্মঘট ডেকে দেশ অচল করে দেওয়ার প্রবণতা দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতকে অবজ্ঞা ও অমান্য করার শামিল।

 

সরকারকেও এই সড়ক নৈরাজ্য নিয়ে ভাবতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে যাত্রীসাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে না পড়ে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাধিকার দিয়ে বিকল্প পরিবহন হিসেবে রেলওয়ের উন্নয়নে মনোনিবেশ করার পাশাপাশি বিআরটিসিকে আবার দূরপাল্লা ও নগরীর গণপরিবহনে ব্যাপক হারে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

 

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের পেছনে সুদূরপ্রসারী কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার। সরকারকে বিব্রত করতে কোনো মহল ধর্মঘটের উস্কানি দিতে পারে। যা কিছুই ঘটুক না কেন, জনভোগান্তির কারণ হয়—এমন কোনো কর্মসূচিই কাম্য হতে পারে না।

Comments are closed.



সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোঃ সহিদুল ইসলাম (সহিদ)

প্রধান কার্যালয়ঃ

বার্তা বিভাগঃ এস,এ পরিবহনের পিছনে
উত্তর তেমুহনী বাসষ্ট্যান্ড, সদর, লক্ষ্মীপুর।

সম্পাদকীয়ঃ বিআরডিবি ওয়ার্কশফ ভবন
বাগবাড়ী, সদর, লক্ষ্মীপুর।

ই-মেইলঃ newsdailyrob@gmail.com, মোবাইলঃ 01712256555, 01620759129

Copyright © 2016 All rights reserved www.rnb24.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com