সোমবার | ১৭ই মে, ২০২১ ইং | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৭:৪৫ | রেজিঃ নং-

লক্ষ্মীপুরে ৭ মাস কর্মস্থলে না থেকে শিক্ষিকার ৭ মাস বেতন আদায়, পাঠদান ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে দিনের পর দিন গত ৭ মাস যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতনসহ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা আদায় করছেন বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক আফসানা আক্তার পিংকি। ফলে ওই শিক্ষিকার দীর্ঘ দিনের অনুপুস্থিতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে অন্যান্য শিক্ষকদের। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশেতো তাদের ব্যাক্তিগত সুবিধা কারণেই সরকারি নিয়মনীতি লংঘন করে তিনি গত প্রায় ৭ মাস যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অন্যান্য শিক্ষকদের ধারণা ডেপুটেশনের অজুহাতে এ যেন এক নতুন নিয়ম বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক আফসানা আক্তার পিংকি ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন ছাড়াই তিনি ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে নিজ বাড়ির নিকটবর্তী পূর্ব ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করছেন। অথচ বেতনসহ সরকারি অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন বালাশপুর বিদ্যালয়ের নামে। মজার বিষয় হচ্ছে পিংকি কিভাবে অনুপস্থিত থেকে এভাবে সুযোগ নিচ্ছেন এর কিছুই সুনির্দিষ্টভাবে জানেন না বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জ্যোৎস্না রাণী ভৌমিক নিজেও। তবে এ বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নিতে পারছেননা, প্রধান শিক্ষিকা বলছেন অদৃশ্যের ক্ষমতার জোরেই চলছে পিংকির অনিয়মের প্রভাব। জানতে চাইলে বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোৎস্না রাণী ভৌমিক বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে প্রথম যোগদান করেন আফসানা আক্তার পিংকি। ৪ মাস নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই তার নিজ এলাকার একটি বিদ্যালয়ে তিনি চলে যান। সদর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আশরাফ মাহমুদের নির্দেশনা মোতাবেক এবং তারই ব্যাক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার জোরেই পিংকি এ বিদ্যালয়ে কর্মরত বলে বেতন পাচ্ছেন। অথচ এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান চরম ব্যাহত হলেও শিক্ষক-শিক্ষির্থীদের দুর্ভোগ দেখছেননা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আশরাফ মাহমুদ । এই অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুর রহমানের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাদের ।

এ বিষয়ে সহকারি শিক্ষক আফসানা আক্তার পিংকি মুঠোফোনে বলেন, আমার বাবা জহির উদ্দিন ও জেলা পরিষদের সদস্য আফজাল হোসেন তাকে পূর্ব ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করানোর জন্য বলেন। এমন ভাব যেন, এরাই সব। তাই তাকে সরকারি কোন বিধি নিষেধ মানতে হচ্ছেনা। তবে শিক্ষা অফিস থেকে নির্দেশ আসলে তিনি এরপর থেকেই বালাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে যাবেন বলে জানান পিংকি।

সদর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আশরাফ মাহমুদ জানান, উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী পিংকিকে ওই বিদ্যালয়ে ডেপুটেশন করা হয়েছে। নিজরে স্বার্থে করা হয়েছে কিংবা লিখিত কোন অনুমোদন আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দেননি তিনি। অন্যদিকে সহকারি শিক্ষকদের অনেকের অভিযোগ, চাকরী শুরুর চার মাসের মাথায় নিজ এলাকার কোনো বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনের মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সহকারি শিক্ষকদের অনেকেরই নিজ এলাকার বিদ্যালয়ে পদ শূণ্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি নির্দেশনানুযায়ী প্রত্যেককে যে কোন জায়গায় কর্মস্থলে চাকুরী করা বাধ্যতামুলক জানায় তারা ।

Comments are closed.



সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোঃ সহিদুল ইসলাম (সহিদ)

প্রধান কার্যালয়ঃ

বার্তা বিভাগঃ এস,এ পরিবহনের পিছনে
উত্তর তেমুহনী বাসষ্ট্যান্ড, সদর, লক্ষ্মীপুর।

সম্পাদকীয়ঃ বিআরডিবি ওয়ার্কশফ ভবন
বাগবাড়ী, সদর, লক্ষ্মীপুর।

ই-মেইলঃ newsdailyrob@gmail.com, মোবাইলঃ 01712256555, 01620759129

Copyright © 2016 All rights reserved www.rnb24.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com