নানা অনিয়ম : হাসেম ফুডের এমডিসহ কর্তাব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আদালতের

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা-
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা- নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা-
প্রকাশিত: ৪:১৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | আপডেট: ২:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

নানা অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলারনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শিল্পগোষ্ঠী সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হাসেম ও উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন নারায়ণগঞ্জ শ্রম আদালত।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের বিচারক কিরণ শঙ্কর হালদার এই পরোয়ানা জারি করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন ঢাকা শ্রম আদালতে মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার পরিদর্শক নেসার উদ্দিন আহমেদ। পরে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ শ্রম আদালতে স্থানান্তরিত হয়।

কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে কারখানার মেশিন লে-আউট প্ল্যানের অসামঞ্জস্য, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, শিশুশ্রমিক নিয়োগসহ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

নেসার উদ্দিন বলেন, ‘কারখানাটিতে নিয়মিত পরিদর্শনে বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া যায়। এগুলো সংশোধনের জন্য তাদের নোটিসও দেওয়া হয়। পরে মামলা করা হলে ওই মামলায় আগাম জামিনে ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সম্প্রতি মামলাটি নারায়ণগঞ্জ শ্রম আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী আদালত পরিবর্তন হলে আসামিদের পুনরায় জামিন নিতে হয়। আদালত মঙ্গলবার এক শুনানিতে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে ২৮ এপ্রিল এই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত বাদীকে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এই মামলার এক সপ্তাহ পর ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত হাসেম ফুডস লিমিটেড কারখানাটিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ ৫৪ জন শ্রমিক-কর্মচারীর মৃত্যু হয়।

আগুনে হতাহতের ঘটনায় ওই সময় পুলিশ বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করে। যদিও গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তিনটি পরিবার আদালতে নারাজি দিলেও ২০ নভেম্বর এক শুনানিতে নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।