বুধবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | রাত ৪:৩০ | রেজিঃ নং-

কমলনগরে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে ইউএনও’র বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে কমপ্লেক্স ভবন,আতংকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

কমলনগর সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান নিজেই। এ কাজে অন্যের জন্য আইনটি দন্ডনীয় হলে ও মনে হচ্ছে ইউএনও'র জন্য এ ক্ষেত্রে শিথিল রয়েছে। চার-পাঁচ দিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সংলগ্ন পুকুর থেকে মহাসমারোহে এ বালু উত্তোলন করছেন ইউএনও।

জানা গেছে, পাশেই শিশু পার্কের জন্য জায়গা ভরাট করছেন তিনি। বালু উত্তোলন করায় বর্তমানে পুকুরের চার পাশ দেবে গেছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সটি। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ধসে যে কোন মূহুর্ত্বে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও বিপদের আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

জানা যায়, নবগঠিত উপজেলা পরিষদ নির্মানের খুব অল্প কয়েক বছরের মাথায় ওই পরিষদ কমপ্লেক্সে ফাটল দেখা দেয়। চরম ঝুঁকি নিয়ে ওই কমপ্লেক্সে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি পুনরায় মেরামতের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে। এতে ২ কোটি ৪৮লাখ ৪৪হাজার একশ’ এক টাকা প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ

তে মের্সাস কসমো বাংলা দুই কোটি ১০লাখ ২১হাজার নয়শ’ এক টাকায় কার্যাদেশ পায়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৪ মে পুনরায় মেরামতের কাজ শুরু করলেও এখনো শেষ করতে পারেনি। কিন্তু এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার ও খামখেয়ালীপনায় ভবন সংলগ্ন পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করে আবারো চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন ৪তলা এ ভবনসহ আশে পাশের আবাসিক কয়েকটি ভবনকে।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে বলা হয়েছে, বালু মহাল এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পাম্প বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। ওই আইনের (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখ রয়েছে ড্রেজিং কার্যক্রম বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাইবে না। এবং সর্বোপরি এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে। সেখানে একজন ইউএনও আইনের রক্ষক হয়ে তা ভঙ্গ করে নিজেই করেছেন বালু উত্তোলন। বিষয়টিতে নিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলে ও কেউই ভয়ে প্রতিবাদ কিংবা বাধা দিতে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন থেকে এ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। পুনরায় মেরামতের কারণে কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও ইউএনওর বালু উত্তোলন করে আবার এ কমপ্লেক্সকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল আনোয়ার জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে তিনি খুব ব্যস্ত ছিলেন যার কারণে বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। খোঁজ খবর নিয়ে তিনি প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মাছ চাষের লক্ষ্যে পুকুরের তলদেশ সমতল করার জন্য কিছু বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের কোন ঝুঁকি হওয়ার কথা না।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা পরিষদে বসেন না। যার কারণে বিষয়টি তার নজরে নেই।

Comments are closed.



সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোঃ সহিদুল ইসলাম (সহিদ)

প্রধান কার্যালয়ঃ

বার্তা বিভাগঃ এস,এ পরিবহনের পিছনে
উত্তর তেমুহনী বাসষ্ট্যান্ড, সদর, লক্ষ্মীপুর।

সম্পাদকীয়ঃ বিআরডিবি ওয়ার্কশফ ভবন
বাগবাড়ী, সদর, লক্ষ্মীপুর।

ই-মেইলঃ newsdailyrob@gmail.com, মোবাইলঃ 01712256555, 01620759129

Copyright © 2016 All rights reserved www.rnb24.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com