লক্ষ্মীপুরে পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ : এখনো বহাল সেই ১১ শিক্ষক-কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক-
নিজস্ব প্রতিবেদক- নিজস্ব প্রতিবেদক-
প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, ২০ মে ২০২৪ | আপডেট: ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৪

লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর ডিএসইউ. কামিল মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহে  তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই ১১ শিক্ষক-কর্মচারী স্বপদে বহাল আছেন তারা। 

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. হামিদুল ইসলাম, একই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. তাফাজ্জল হোসেন, অফিস সহকারি মো. জহির উদ্দিন, ওই কেন্দ্রের হল সুপার ও আভিরখিল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস, বশিকপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. মোর্শেদ আলম ও মো. ইসমাইল হোসেন, মাদ্রাসাতুল জান্নাতের শিক্ষক তসলিম উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, রমারখিল দাখিল মাদ্রাসার দিদার হোসেন, মো. ইউসুফসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করে ইতিমধ্যে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ করলে ও কার্যত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিবাবক ও এলাকাবাসী। 

অভিযোগ রয়েছে, দাখিল পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে ঘুরছেন কয়েকজন শিক্ষক। সুযোগ বুঝে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে উত্তরপত্রের চিরকুট। আবার একজন শিক্ষক একটি কাগজ দেখে ব্লাক বোর্ডে লিখে দিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীরা সেটা দেখে খাতায় লিখছে। গত ৮ মার্চ এমনই ঘটনার সংবাদ ও সিসি টিভির একটি ভিডিও  বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

এ সংক্রান্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে গঠিত মাদ্রাসা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। ঘটনায় জড়িত ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের কমিটি। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।

দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, বশিকপুর ডিএসইউ কামিল মাদ্রাসা (লক্ষ্মী-০২) দাখিল পরীক্ষা ২০২৪ চলাকালে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের অভ্যান্তরে থেকে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছেন। বিষয়টি অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন।

একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন এবং ওই শিক্ষকরা দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমাল ২০২৪ এর ৩.১০ এর নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ এর ৯ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন- মর্মে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের কমিটি সুপারিশ করেন। যা গত ১২ মার্চ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। তবে প্রতিদিনই পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই শিক্ষকরা নকল সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে বশিকপুর ডিএসইউ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. হামিদুল ইসলাম, একই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. তাফাজ্জল হোসেন, অফিস সহকারি মো. জহির উদ্দিন, ওই কেন্দ্রের হল সুপার ও আভিরখিল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস, বশিকপুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. মোর্শেদ আলম ও মো. ইসমাইল হোসেন, মাদ্রাসাতুল জান্নাতের শিক্ষক তসলিম উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, রমারখিল দাখিল মাদ্রাসার দিদার হোসেন, মো. ইউসুফসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বপদে বহাল আছেন তারা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। তারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া শাস্তি থেকে বাঁচতে তদবির বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বশিকপুর ডিএসইউ. কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড ও জেলা প্রশাসন থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি মূল অভিযুক্ত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের পরে আরও কেউ যুক্ত হতে পারেন। এটি সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিওতে স্পষ্ট। তবে তদবিরের বিষয়টি সঠিক নয়।

একই কথা বলছেন ওই কেন্দ্রের হল সুপার আভিরখিল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তদন্ত কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, দাখিল পরীক্ষার্থীদের নকল দিচ্ছেন শিক্ষকরা এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবেদনটি দুই কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা মিলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা আছে। বর্তমানে কি অবস্থায় আছে জানা নেই। তবে দুদিন পর বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন এ কর্মকর্তা।