যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : ট্রাম্পই-বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী

রব ডেস্ক-
রব ডেস্ক- রব ডেস্ক-
প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৪ | আপডেট: ১:৫৬ অপরাহ্ন, ২১ এপ্রিল ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইপর্বে রিপাবলিকান পার্টির নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সুপার টুয়েসডে’তে ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ১৫টি রাজ্যে অনুষ্ঠিত এই ভোট উৎসবের পর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

ফলে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ট্রাম্পের পথ এখন পরিষ্কার। আর ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একই দিন ১৪টি রাজ্যে বাছাইপর্বের ভোটে ১৩টিতে জিতে আবার প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে পথ পরিষ্কার করেছেন। ট্রাম্প ও বাইডেন- তাদের সামনে বাছাইপর্বের আরও জটিল সব আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও লড়াইয়ের মতো আর কোনো যোগ্য প্রার্থী না থাকায় এবং আর কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারা দুজনই যে মুখোমুখি হচ্ছেন, তা বলাই যায়।


মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব অনুসারে, সুপার টুয়েসডের প্রাইমারিতে ট্রাম্প ১৫টির মধ্যে ১৪টিতে জয় পেয়েছেন। কেবল ভারমন্ট রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালির কাছে হেরেছেন তিনি।

২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের কাছে হেরে ক্ষমতা ছাড়েন ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুসারে, ট্রাম্প যেসব রাজ্যে জয় পেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে- আলাবামা, আলাস্কা, আরকানসাস, কলোরাডো, ক্যালিফোর্নিয়া, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওকলাহোমা, টেনেসি, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া ও ইউটাহ।

জয়ের খবরে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক বাছাই ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত ‘সুপার টুয়েসডে’। মঙ্গলবার এই সুপার টুয়েসডেতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির বাছাইপর্বের ভোট হয়। আর ১৪টি রাজ্য ও আমেরিকান সামোয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় ডেমোক্র্যাটদলীয় বাছাইপর্বের ভোট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব অনুসারে, ১৪টি রাজ্যের সব কটিতে জিতেছেন বাইডেন। তবে মার্কিন টেরিটরি সামোয়ায় স্বল্পপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাসন পামারের কাছে হেরে গেছেন তিনি।

বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলাফল গড় করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস বলছে, নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে বাইডেনের চেয়ে ২ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন ট্রাম্প।

যেহেতু প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত হয়েই যাচ্ছে তাই ট্রাম্প এবং বাইডেন সুপার টুয়েসডের ফলাফলের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং পরস্পরকে আক্রমণের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এটিই তাদের ভোটের আন্তর্জাতিক প্রচার।

মঙ্গলবার রাতেই মার-আ-লাগোতে বিজয়ী ভাষণে ট্রাম্প বাইডেনের অভিবাসননীতির কড়া সমালোচনা করেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ’ প্রেসিডেন্ট বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘অভিবাসীদের অপরাধকাণ্ডে আমাদের নগরীগুলো ছেয়ে যাচ্ছে।’ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ পরিসংখ্যান ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করছে না।

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেন বাইডেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ফল (মঙ্গলবার) আমেরিকার জনগণের সামনে স্পষ্ট করে তাদের পছন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবে : আমরা কী সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া অব্যাহত রাখব নাকি আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে বিশৃঙ্খলা, বিভেদ ও অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেব? তার মেয়াদকে এভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হয়।’

বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনই ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হতে চলেছেন সেটা শুরু থেকেই একরকম নিশ্চিত ছিল। কারণ তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো প্রার্থী ছিল না। তবে এর মানে এই নয় যে বাইডেনের সামনে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি বাইডেনের অন্ধ সমর্থনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সাধারণ মানুষই মেনে নিতে পারছে না। বিশেষ করে মুসলমান এবং আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা। এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ব্যালটে ‘আনকমিটেড’ ভোট যুক্ত করেছে।

এডিসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিনেসোটায় অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে প্রায় ২০ শতাংশ আনকমিটেড ভোট পড়েছে। গত সপ্তাহে মিশিগানেও একই ব্যবস্থা ছিল এবং সেখানে ১৩ শতাংশ আনকমিটেড ভোট পড়েছে।

বাইডেন মিনেসোটা এবং বাকি ১৪টি রাজ্যে মঙ্গলবার জিতেছেন। এমনকি আইওয়াতে ডাকযোগে পাঠানো ভোটেও তিনিই জিতেছেন। কিন্তু যেভাবে আনকমিটেড ভোট বাড়ছে তাতে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটে তার প্রভাব নিয়ে বাইডেন শিবিরে উদ্বেগ বাড়ার কথা।

মঙ্গলবারের প্রাইমারিতে জিতলেও ইউএস টেরিটরি অব আমেরিকান সামোয়াতে এদিনের ককাসে উদ্যোক্তা জেসন পালমারের কাছে হেরে গেছেন বাইডেন। ককাসে পালমার ৫১ এবং বাইডেন ৪০ ভোট জিতেছেন বলে জানিয়েছে আমেরিকান সামোয়া ডেমোক্রেটিক পার্টি।

যদি সত্যিই বাইডেন আর ট্রাম্প নভেম্বরে ভোটের লড়াইয়ে নামেন তবে তা হবে ১৯৫৬ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার একই প্রার্থীদের পরপর দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘটনা।

পরপর দুইবার পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ট্রাম্প-বাইডেন জুটি ইতিহাস গড়তে চললেও এর কারণ ভোটারদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। বরং এবার অনেক ভোটারই বলছেন, তারা ৭৭ বছর বয়সি ট্রাম্প বা ৮১ বছর বয়সি বাইডেন, কাউকেই চান না। জনমত জরিপগুলোতেও দেশজুড়ে উভয়েরই জনপ্রিয়তা কমছে।

রিপাবলিকান ভোটারদের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয় অভিবাসন এবং অর্থনীতি। ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার এডিসন এক্সিট পোল এটাই বলছে।

সুপার টুয়েসডে কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ওই তিন রাজ্যের বেশিরভাগ রিপাবলিকান ভোটার বলেছেন, তারা অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পক্ষে। আর ট্রাম্প বরাবরই অভিবাসীদের নিন্দা করে গেছেন এবং বলেছেন, যদি তিনি এবার নির্বাচিত হন তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসী বিতাড়ন দেখা যাবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৬৫ বছর বয়সি গৃহিণী ক্যাথেরিন মেরেডিথ ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়েছে।’

মঙ্গলবার ট্রাম্প-বাইডেনের পুনঃলড়াইয়ের আভাস যেমন পাওয়া গেছে, অন্যদিকে এদিনের ফলাফলে হ্যালির ওপর দৌড় থেকে সরে যাওয়ার চাপই হয়তো শুধু বাড়বে। মঙ্গলবার তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার শিবির থেকে সামনে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়েও কিছু জানায়নি।

এক বিবৃতিতে তার মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই ভোটে দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়েছে যারা ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, এএফপি ও আলজাজিরা